মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

খাদ্য উৎপাদন

 

গোলাপ চাষঃ প্রাকৃতিক সপ্তমাশ্চর্যের নৈসর্গিক নিদর্শন কক্সবাজার। চট্টগ্রাম থেকে আসতে তারি প্রবেশদ্বারে পাহাড়ের সুবজে ভরা গ্রামটির নাম বরইতলী। বাংলার রূপ মাধুর্যের অপূর্ব মিলন মেলা। চতুর্দিকে পাহাড় বেষ্টিত সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা সুন্দর একটি জনপদ। বড়ই উর্বর এই জনপদের মাটি। কবির ভাষায়- ‘‘ওভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি.......আমার দেশের মাটি’’। কবির মা-মাটি ও মানুষের মর্মস্পর্শী টানের ছোঁয়া এখানেই খুঁজে পাওয়া যায়। বিগত দুই দশকে এই জনপদেই বাণিজ্যিক ফুল চাষের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এক অর্থনৈতিক বিপ্লব। এলাকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার যুবকেরা খুঁজে পেয়েছে তাদের আত্ম কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র। ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে এখানে চাষ হচ্ছে গোলাপ, গ্লাাডিওলার্স, গাঁদা রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন জাতের বাহারী ফুল। বরইতলী ইউনিয়নের উপর দিয়ে একে বেঁকে চলে যাওয়া আরকান মহাসড়কের উভয় পাশে এবং যে নদী সোনা ফলায় সেই সোনাইছড়ির দুই তীরে বিভিন্ন বাগানে সোভা পাচ্ছে এ সব ফুল। দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে ফুল প্রেমিক ও পর্যটকরা। আজ বরইতলী কক্সবাজার বাসীর গর্ব।

বাণিজ্যিক যাত্রা: চট্টগ্রাম শহরের বিশিষ্ট দমত্ম চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ মুসা সাহেব, (স্থায়ী নিবাস, হাটহাজারী উপজেলায়) বরইলীতে বেড়াতে এসে এর রূপ মাধুর্যে অভিভূত হন। তিনি তার ২য় পুত্র জনাব মরহুম জাহাঙ্গীর কবিরকে নিয়ে বরইতলীর অনতি দূরে পাহাড়ীয়া জমি ক্রয় করে গড়ে তোলেন বিশাল খামার বাড়ি। খামার বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব দেন জনাব জাহাঙ্গীর কবিরকে। কিন্তু ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় তার সমসত্ম বাগান বাড়ি। অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। চিমত্মা করতে থাকেন, কি গাছে বা উদ্ভিদে স্বল্প সময়ে ফলন আসে। অনুসন্ধানি মন নিয়ে ঘুরে বেড়ান চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন নার্সারীতে। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন খুঁজে পান বাণিজ্যিক গোলাপ চাষের ধারণাটি। তখন সময় ১৯৯৪ সাল। চট্টগ্রাম অলি খাঁ মসজিদ সংলগ্ন, সবুজ বিপ্লব নার্সারীর মালিকের সাথে গোলাপ চাষ পদ্ধতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা হয় জনাব জাহাঙ্গীর কবিরের। তাদের এ আলোচনা থেকেই সৃষ্টি হয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগে বাণিজ্যিক গোলাপ চাষের ধারণাটি। সবুজ বিপ্লব নার্সারি থেকে উন্নত জাতের বাড গ্রাফটিং (চোখ কলম) চারা ক্রয় করে তিনি খামার বাড়িতে শুরু করেন বাণিজ্যিক গোলাপ চাষ।

বাগানের পরিকল্পনা :পরিকল্পনা মাফিক বাগানের নক্শা তৈরি সম্বন্ধে কিছু পূর্ব ধারণা থাকা দরকার। অনেকে ভূলক্রটি এড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞের সুপারিশ মত কাজ করেন। যেখানে দিনে অধিকাংশ সময় সরাসরি সূর্যের আলো পায় গোলাপের জন্য তা খুবই সুবিধাজনক। শীতের দিনে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যমত্ম সূর্যের আলো গোলাপকে খুব ভালভাবে বাড়তে সাহায্যে করে। পানি নিকাশের জন্য ক্রমান্বয়ে ঢালু জমি হলে ভাল হয়। সাধারণত উত্তর-দক্ষিণ সারি করে বাগান করলে প্রত্যেক গাছে আলো-বাতাসের সুন্দর ব্যবস্থা হয়।

মাটি:কোনও মাটি অম্ল, ক্ষার বা প্রশম ধর্মী হতে পারে। অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব নির্ধারণের মাপকাঠি হল PH Valueযার বিসত্মার ১-১৪ পর্যমত্ম। PHসাত হলে মাটি প্রশম, সাত এর নিচে অম্ল ও সাত এর উপরে ক্ষার ধর্মী বলে ধরতে হবে।

অম্লত্ব:সাধারণত PH 5.5 এর উপরে মাটির ব্যাক্টেরিয়া সুষ্ঠভাবে বংশ বিসত্মার ও জীবন ধারণ করতে পারে। জীবাণু বা অ্যামোনিয়াকে অনায়াসে নাইট্রেট এ রূপামত্মরিত করতে পারে। নিম্ন PH (১-৫) মাটিতে অ্যালুমুনিয়াম আয়রণ ও ম্যাংগানীজের দ্রবনীয়তা বেড়ে যায়, যা গাছের পক্ষে ক্ষতিকর। মাটির PHবাড়লে ঐ আয়নগুলো অতি অল্প মাত্রায় দ্রবণীয় অবস্থায় আসে। ফলে গাছের অনিষ্ট না হয়ে উপকারে আসে। কপার ও জিংক যা গাছের অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হয়, তাও মাটির PH  সাত এর কাছাকাছি থাকলে প্রয়োজনীয় মাত্রায় তা গাছ পেতে পারে। মাটির অম্লত্ব প্রশমনে বিভিন্ন প্রকার চুন, লাইমষ্টুন, ডলুমাইট, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, চক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম হতে ৭৫০ গ্রাম চুন ব্যবহার করা যায়।

ক্ষারত্ব বা লবণাক্ততা:এমন মাটি গোলাপের পক্ষে অনুপযোগী দ্রবণীয় লবণ বেশী থাকার ফলে মাটিরPHসাধারণত ৮.৫ এর কম হয় না। উৎপন্ন সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড কার্বনডাইঅক্সাইড এর সঙ্গে বিক্রিয়া যোগে সোডিয়াম কার্বনেট এ রূপামত্মরিত হয়। সোডিয়াম কার্বনেট গোলাপের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর। কার্বনেট বা বাই কার্বনেট মাটি থেকে দূর করতে জিপসাম বা প্লাষ্টার অব প্যারিস প্রয়োগ অত্যমত্ম কার্যকর। জিপসাম ও সোডিয়াম কার্বনের এর বিক্রিয়ার ফলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম সালফেট তৈরি হয়, কার্বনেট মুক্ত হয়। মূল উদ্দেশ্যে সোডিয়ামকে সরানো। প্রতি শতকের ৪০০-৭৫০ গ্রাম জিপসাম বা ১০০-২৫০ গ্রাম সালফার প্রয়োগ করে মাটিকে পুণরুদ্ধার করা যায়।

উৎপাদন:প্রতি ৪০ শতক (এক কানি) জমিতে প্রতিদিন গড়ে ১ম/২য়/৩য় বৎসর যথাক্রমে ৮০০/১২০০/১২০০ গোলাপ উৎপাদিত হবে। তবে জমির উর্বরতার উপর ভিত্তি করে উৎপাদন কম-বেশি হতে পারে।

বিনিয়োগ: বর্তমানে ৪০ (চল্লিশ শতক) জমিতে প্রায় ১,৪৫,০০০/ (এক লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকাবিনিয়োগ করতে হয়। যেমন:

বিনিয়োগের খাত

দর

টাকা

ক) জমির খাজনা (১ম বৎসর)

১৬০০০

১৬০০০

খ) গোলাপের চারা(৩৫০০টি)

১৫

৫২৫০০

গ) সার (রাসায়নিক ও জৈব)

৮০০০

৮০০০

ঘ) গোবর/ কম্পোষ্ট সার (৭.৫টন)

১০০০

৭৫০০

ঙ) ঘিরা-বেড়া

১০০০০

১০০০০

চ) খামার বাড়ি তৈরি

২০০০০

২০০০০

ছ) স্প্রে মেশিন ও সরঞ্জাম

৮০০০

৮০০০

জ) জমি চাষ ও চারা রোপন

৫০০০

৫০০০

ঝ) কর্মচারী বেতন (২ মাস-২জন)

১৬০০০

১৬০০০

ঞ) সেচ ও অন্যান্য

২০০০

২০০০

মোট বিনিয়োগ

১,৪৫,০০০

 

 

মাসিক সম্ভাব্য আয়-বিবরণী:

উৎপাদনের সময়কাল

দৈনিক উৎপাদন

মাসিক উৎপাদন

দর (গড়ে)

বিক্রয় আয়

১ম বৎসর

৮০০

২৪০০০

.৮৫

২০৪০০

২য় বৎসর

১২০০

৩৬০০০

.৮৫

৩০৬০০

৩য় বৎসর

১২০০

৩৬০০০

.৮৫

৩০৬০০

মাসিক সম্ভাব্য চলতি ব্যয় বিবরণী

ব্যয়ের খাত

১ম বৎসর

২য় বৎসর

৩য় বৎসর

কর্মচারীর বেতন

৮০০০

৮০০০

৮০০০

সার

২০০০

২৫০০

২৫০০

কীটনাশক

২০০০

৩০০০

৩০০০

বাড়তি মহিলা শ্রমিক

১৫০০

২৫০০

২৫০০

মোট ব্যয়-

১৩৫০০

১৬০০০

১৬,০০০

        

 

মাসিক/বাৎসরিক লাভ-লোকসান বিবরণী

সময়কাল

মাসিক বিক্রয় আয়

মাসিক ব্যয়

মাসিক মোট আয়

বাৎসরিক নীট আয়

১ম বৎসর

২০৪০০

১৩৫০০

৬৯০০

৮২৮০০

২য় বৎসর

৩০৬০০

১৬০০০

১৪৬০০০

১৭৫২০০

৩য় বৎসর

৩০৬০০

১৬০০০

১৪৬০০০

১৭৫২০০

বৎসরে ৪০ শতক জমিতে গড় আয়-

৪,৪৩,২০০

উপরোক্ত বিনিয়োগ, আয় বিবরণী, সম্ভাব্য চলতি ব্যয় বিবরণী থেকে দেখা যায় যে, ৪০ (চল্লিশ) শতক জমিতে ১ম, ২য় ও ৩য় বৎসর যথাক্রমে ৮২,৮০০, ১৭৫২০০ ও ১৭৫২০০ টাকা মোট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। যেখানে, প্রাথমিক মূলধন বিনিয়োগ করা হয়েছিল ১৪৫০০০ টাকা। গড়ে ৩ (তিন) বৎসরে আয় হচ্ছে-(৮২৮০০ + ১৭৫২০০ + ১৭৫২০০ =) ৪৩৩২০০ টাকা - প্রাথমিক বিনিয়োগ ১৪৫০০০ টাকা = ২৮৮২০০ টাকা।গড়ে মাসিক নীট আয়- (২৮৮২০০- ৩৬ মাস) ৮০০৫ টাকা।

 

মৎস্য চাষঃ দারিদ্র বিমোচন, বেকার সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম দাবিদার মৎস্য চাষ। সখের বশত মৎস্য চাষ সর্বপ্রথম বরইতলীতে ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা হতে ২৫০ বড় নাইলেটিকা মাছ এন প্রাকৃতিক ভাবে জর্দাঘোনায় দুই একর জমিতে পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করেছিলেন। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য জনাব এ.এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। সেই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত পোনা রসুলাবাদেরজনাবহাশেম উদ্দিন, উত্তর বরইতলীর জনাব জাহাঙ্গীর সাহেব সহ অনেকে কিনে নিয়ে মাছ চাষের প্রসার শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮৭ সালে হতে বাণণীর্জকভাবে সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করা হলে ও ১৯৯০ দশকে এরব্যাপক প্রসার ঘটে এবং ২০০০ সালের পর আধা-আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের এক বিপ্লব সংঘটিত হয় বরইতলীতে। অনুসন্ধানে জানা যায় বর্তমানে বরইতলী এবং নিকটবর্তী এলাকায় প্রায় ২৩১ একর জমিতে আধা-আধুনিক পদ্ধতিতে মিক্সার চাষ হচ্ছে।  এই মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত মনোসেক্স হ্যাচারীতে ও পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে। একই সাথে চার ব্যবসায়ীর মালিকানাধীনে ফিশ-ফিড ব্যবসা পুরোদমে চলছে। সব ব্যবসা মিলে বছরে প্রায় এক কোটি ৭৩ (তিয়াত্তর) লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে ৫০০ জন শ্রমিক। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ফিশ-ফিডের চাহিদা বেশি হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টির আড়ালে খাবারের দাম বৃদ্ধি করেছে কোম্পনীরা যা মোট উৎপাদন খরচের ৬৫% । তাছাড়া ঐ ফিশ-ফিড কোম্পানী তাদের খাবারের গুণগত মান ও কমিয়য়েছে বলে মাছ চাষীদের অীভযোগ রয়েছে। মাছ চাষীদের সাথে আলাপে জানা যাযা অধিকাংশ চাষীর কোন ট্রেনিং নেই। উপজেলা মৎস কর্মকর্তা কয়েকবার সেমিনারের মাধ্যমে কিছু পরমর্শ দিলেও তা কৃষকদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। কৃষি কর্মকর্তা মাছাচাষীদের বাস্তবতা অনুসারে পরামর্শ দিতে অক্ষম বলে ও অনেকের ধারনা। তাছাড়া সম্প্রতি তেলাপিয়া মাছের এক ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়েছে যেটিতে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকায় মাছ মরে যাচ্ছে। চাষীদের ধারনা আবহাওয়া বদল হওয়ার সময় কিংবা পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী এর বেশি হলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। ব্যাপক চেষ্টা সত্বেও এ রোগের চিকিৎৎসা এখনো চাষীদের অজানা রয়েছে। তাছাড়া বর্ষার সময় সোনাইছড়ি খালের ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল, মাতামুহুরী নদীর পানি বন্যার সময় উজানে আসা, স্থানীয় কিচু দুষ্কৃতিকারী কৃর্তক পুকুরে বিষ প্রয়োগ, আধুনিক কলাকৌশল ও প্রযুক্তির অভাব। এসক কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে বলে মাছ চাষীদের অভিমত। এতদসত্ত্বেও বর্তমানে জনাব এ.এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, জনাব হাশেম উদ্দিন, জনাব ছালেকুজ্জামান, জনাব আনছারুল ইসলাম, জনাব আফছারুজ্জামান, জনাব শাহীন মুরাদ, জনাব নুরুল কবির চৌধুরী, জনাব ছদরুল আমিন চৌধুরী, জনাব লুৎফুর রহমান, জনাব এনামুল হক, জনাব নাসির উদ্দিন, জনাব মো: আবু তালেব, জনাব মঈনুল ইসলাম, জনাব সাইফুল ইসলাম, জনাব এমরানুলহক, জনাব নজরুল ইসলাম, জনাব নেজামুল ইসলাম, জনাব মওলানা খলিল উদ্দিনসহ প্রায় চল্লিশজন মাছচাষী বরইতলীতে মাছের ব্যবসা চালাচ্ছেন। চকরিয়ার মিঠা পানির মাছের মোট চাহিদার ৬৫% বরইতলীর উৎপাদিত মাছ দ্বারা পূরণ হচ্ছে বলে চাষীদের অভিমত।

 

 

মৎস্য চাষের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রাপ্ত পুরষ্কার সমূহ:

১। উপজেলা মৎস্য পুরষ্কার, ১৯৮৮ সাল।

২। মাছের গুণগতমানের পোনা উৎপাদন এ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ

৩। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতীয় মৎস্য পুরষ্কার ২০০৯ সাল।

৪। কার্প-গলদা মিশ্র চাষে জেলায় সর্বোচ্চ পরিমান মাছ উৎপাদন করিয়া মৎস্য সমপদ উন্নয়নে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য জেলা প্রশাসক কর্তৃক ‘‘মৎস্য সপ্তাহ-৯৭ পুরষ্কার’’

 

সুপারিশঃ ১। বর্তমানে মাছ চাষের জন্য সরকারি কোন ব্যাংক লোন নাই। তাই পূঁজি সরবরাহের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক লোন দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

২। আধুনিক পদ্ধতিতে পোনা, সার, মাছের খাবার এবং পদ্ধতি পর্যাপ্ত সরবরাহ করা উচিত।

৩। আধুনিক পদ্ধতিতে বন্যার সময় হবঃরহম এর মাধ্যমে মাছ চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা, প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করা উচিত।

৪। প্রান্তিক চাষীদের স্থানীয় ও সরারিভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৫। খাদ্যের দামে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন যাতে খাদ্যের দাম ও গুণগত মান গ্রহনীয় মাত্রায় থাকে।

৬। মাছ চাষে পানি ও মাটি নির্বাচনে উপযোগী টৈকনিক্যাল সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৭। রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ বন্ধ করা প্রয়োজন।

৮। মৎস্য তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রকে আধুনিকীকরণ ও তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

৯। ঝঃড়পশরহম মাছের পোনা ক্রয় করে আনার পর সরাসরি বড় পুকুরে না দিয়ে আলাদাভাবে নার্সারী পুকুরে রেখে ৫/৬ মাস যত্ন নেয়া উচিত। মাছের মৎড়tঃয আসলে তারপর বড় পুকুরে দেয়া উচিত।

 

মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী

১। বৈশাখ (এপ্রিল-মে)ঃ-এ সময়টাতে কার্পজাতীয় মাছ ডিম পাড়ে। এ কারণে রেনু চাষীদের জন্য এ সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। রেনু চাষের জন্য আতুঁর পুকুর বা নার্সারী পুকুর তৈরীর উপযুক্ত সময়। ভালভাবে শুকানো, অতিরিক্ত কাঁদা অপসারণ তলদেশ পরিচর্যার এখনই সময়। চুন, গোবর, এবং সার প্রয়োগ করে পুকুরে পানি সরবরাহ করে পানিতে প্রাকৃতিক খাবার জন্মাতে হবে। গত বছরের বড় চারা আকারে পোনা ছাড়ার জন্য মজুদ পুকুর ও পরিচর্যা করা নিতে পারে।

২। জৈষ্ঠ্য (মে-জুন) গত মাসে আতুঁর পুকুরে ছাড়া রেনু পোনা ইতিমধ্যে ধানী পোনায় রূপান্তরিত হয়েছে। চারা পোনার জন্য গত মাসে তৈরী করে রাখা চারা পুকুরে এ মাসে ধানী পোনা মজুদ করতে হবে।

৩। আষাঢ় (জুন-জুলাই) যারা মজুদ পুকুরে গত বছরের ছোট নলা মাছ রেখেছে তারা এখন ঠিকভাবে খাবার দিতে পারে এবং যাদের কাছে বড় মাছ আছে তারা এ সময়ে বাজারে মাছ বিক্রি করলে ভাল বাজার দাম পাবে। ধানী পোনা সংগ্রহ করে চারা পুকুরে মজুদ করতে পারবে।

৪। শ্রাবণ (জুলাই-আগষ্ট) চারা পুকুরে জৈষ্ঠ্য মাসে ছাড়া পোনা ৩ইঞ্চি-৪ইঞ্চি হয়ে থাকলে এ সময়ে তা মজুদ পুকুরে স্থানান্তর করা দরকার। পূর্বের মজুদ পুকুরে রাখা মাছ বিক্রি করে দেয়া আবশ্যক। মজুদ পুকুরের জন্য আদুল পোনা না থাকলে তা সংগ্রহ করে এখনি মজুদ করা দরকার।

 

৫। ভাদ্র (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর) মজুদ পুকুরে এখন নিয়মিত খাবার দিতে হবে। মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আবশ্যাক। পুকুরের পানির পি এইচ মেপে প্রয়োজনে চুন দেয়া যেতে পারে।

৬। আশ্বিন (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) পুকুরে জলজ আগাছা জন্মালে তা তুলে নিতে হবে। পানিতে প্রাকৃতিক খাবারের ঘাটতি হলে সার প্রয়োগ করা আবশ্যক। মাছের খাদ্য প্রদান ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষন করতে হবে।

৭। কার্তিক: (অক্টোবর-নভেম্বর) মাঝে মাঝে হররা টেনে দেয়া আবশ্যাক। এ মাসের শেষের দিকে শীত পড়বে। পুকুরের পানি শোধন এবং প্রতিরোধ হিসেবে পুকুরের প্রতি শতাংশ আধা কেজি চুন প্রয়োগ করা হলে মাছের জন্য ভাল হবে।

৮। অগ্রহায়ন: (নভেম্বর-ডিসেম্বর) এ মাসের সারের ব্যবহার কমানো উচিত। অজৈব সার পরিমিত ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিক ঘনত্বের মাছ কিছু সংখ্যক তুলে ফেলতে হবে।

৯। পৌষ (ডিসেম্বর-জানুয়ারী) মাছ খুব কম খাবে। পুকুরের সার প্রয়োগে সচেতন হতে হবে। মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনে চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। পুকুরে গ্যাস হতে পারে হররা টানা দরকার।

১০। মাঘ (জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী) নিয়মিত হররা টানতে হবে। প্রতি শতাংশে আধা কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে।

১১। ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী-মার্চ) মাছ আবার খেতে শুরু করবে। পুকুরে হররা টানা ছাড়াও চুন প্রয়োগ করতে হবে। পানির পরিমান বেশি কমে গেলে পানি বাড়াতে হবে।

১২। চৈত্র (মার্চ-এপ্রিল): নতুন নার্সারী পুকুর বা চারা পুকুর তৈরি শুরু করলে তা এমাসেই শেষ করতে হবে।

 

ধান চাষঃ