মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

 

খতিবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (র.) বাংলাদেশের এক যুগশ্রেষ্ঠ আলিমে দীন, বাগ্মী ও রাজনীতিবিদ। প্রবল স্মৃতিশক্তি, অপূর্ব বাগ্মিতা ও চমকপ্রদ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের ফলে সমসাময়িক কালে তিনি বিখ্যাত হয়ে উঠেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (র) হাদীস, তাফসীর, ইসলামী আইন (ফিক্হ), উ"চতর যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, আরবী, ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষা, হিকমত, বালাগাত (অলংকার শাস্ত্র), মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফরায়েয), বিতর্ক প্রতিযোগিতা (মোনাযিরা), ওয়ায ও বক্তৃতায় মৌলিকত্বের ছাপ রেখে গেছেন। যে কোন জটিল বাক্যকে সহজ ও সরল ভাষায় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ছিল বিস্ময়কর। বক্তব্য উপস্থাপনায় তিনি তাঁর নিজস্ব ষ্টাইল অনুসরণ করতেন। বিগত শতাব্দীর পাঁচ দশক ধরে পাক-বাংলায় খ্যাতি ও যশের মধ্যাকাশে ছিল তাঁর অবদান। বহুমুখী প্রতিভার এক অপূর্ব বিস্ময় মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (র.) হাদীসের শিকতায়, ধর্মীয় কুসংস্কারের বির"দ্ধে বিতর্ক মঞ্চে, রাজনীতির জটিল অঙ্গনে, পার্লামেন্টারী কর্মকান্ডে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছিলেন সমানভাবে সক্রিয়। খতিবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (র.) সৃষ্টিধর্মী মেধা ও মননশীলতার বহুমাত্রিকতার কারণে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন সন্দেহাতীতভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মেধার সাথে যুক্তি ও সূক্ষ্ম বিচার শক্তির সমন্বয় ঘটায় তিনি সাধারণের মধ্যে অনন্যসাধারণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর তিতিা ও বর্ণাঢ্য জীবন ইতিহাস আমাদের জাতীয় গৌরবের অনন্য পটভূমি। আমাদের সার্বভৌম জাতিসত্তার নির্মাণ ও জাতীয় অগ্রগতিতে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি আজীবন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে। জ্ঞান সাধনা ও কর্ম সাধনায় অবিসংবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি জাতীয় ব্যক্তিত্বের মর্যাদায় অভিষিক্ত হন। অব্যাহত জ্ঞান চর্চা, নির্লোভ কর্ম সাধনা এবং বর্ণাঢ্য বুদ্ধিব"ত্তির পরিচর্যার ক্ষেত্রের তাঁর অবদান ছিল বাংলাদেশের প্রোপটে গিরিশৃঙ্গতুল্য (ড.আ ফ ম খালিদ হোসেন, খতিবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ রহ: জীবন ও কর্মসাধনা, প".৭)।

 

আলহাজ্ব ফজলুল করিম চৌধুরীঃ তিনি পহরচাঁদা গ্রামের একজন কৃতিমান সমাজ সেবক তিনি ১৯৯২ সালে পহরচাঁদা গ্রামের জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম লাল মিয়া সিকদার, তিনি এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিত। সমাজ সেবা ও শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬০ সালে হারবাং হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৭০ সালে বরইতলী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে ব্যাপক আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। তাছাড়া পরহচাঁদা জুনিয়র হাইস্কুলকে পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার ব্যাপারে তার অগ্রণি ভূমিকা ছিল। বানিয়ারছড়া মঘনামা সড়ক গোড়াপত্তনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সর্বোপরি ১৯৬৮ সালে চকরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে তিনি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য হিসেবে বিশেষ অবদান রাখেন।

লকনুল হোছাইন চৌধুরীঃ মৃত্যু ১৯৫৬ ইংরেজী, পিতা: মরহুম মতিউল্লাহ সিকদার। তিনি চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল হতে এস.এস.সি পাশ করেন। তিনি চট্টগ্রামের শিল্পপতি মরহুম আব্দুল হাকিম চৌধুরীর অধিনে চাকুরী করেন। তিনি অবিভক্ত হারবাং ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি খুবই দানবীর ও ধর্মপরায়ন ব্যক্তি ছিলেন।

পাঁচকড়ি মুহুরী সিকদারঃ পিতা: মরহুম রওশন আলী হাজী। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি উক্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১ কানি বা ৪০ শতক জমি চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডকে দান করেন ০১/০৪/১৯১১ ইংরেজীতে। তিনি নিজ খরচে বিদ্যালয় গৃহটি নির্মাণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন করেন। প্রতিষ্ঠাকালীণ শিক্ষকগণ তার নিজ বাড়ীতেই থাকত। তিনি উত্তর বরইতলী জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা। তিনি ডাঙ্গার দীঘি জামে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেন। তাছাড়া তিনি এলাকার প্রভাসশালী জমিদার ছিলেন।

মওলানা নাঈম উদ্দিনঃ (১৮৫০-১৯৭০) পিতা: ওয়াজ উদ্দিন মাতব্বর। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা স্থানীয় স্কুলে ও মাদ্রাসায় সম্পন্ন করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকতা আলীয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। তিনি ভাল ওয়ায়েজীন ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের মেম্বার ছিলেন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য ১৯ শতকের গোড়ার দিকে নিজ বাড়ীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভীত তৈরী করেছিল। তিনি দাঙ্গার দীঘি জামে মসজিদের আজীবন অবৈতনিক ইমাম ছিলেন।

মওলানা আহমদ হোছাইনঃ তিনি উপর বরইতলীর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় বিদ্যালয় হতে ইবতেদায়ী শিক্ষা সম্পন্নের পর ভারতের দেওয়ানবন্ধ মাদ্রাসা হতে দাওয়ায়ে হাদীস পাশ করেন। তিনি আজীবন বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ছিলেন। পর্যটক হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। তিনি একজন দক্ষ ওয়ায়েজীন ছিলেন। ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে মৌলানা নমী উদ্দিন’র বাড়ীতে স্থাপিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ধর্ম শিক্ষা প্রচার ও প্রসারে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

মাস্টার আবুল খায়েরঃ তিনি সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি খুবই ধার্মিক ও সামাজিক লোক ছিলেন। বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিলে বলে জানা যায়।

 

কবি নতুন চন্দ্র দে 1882 খ্রিষ্টাব্দে উত্তর বরিইতলী পূর্ব হিন্দু পাড়া গ্রামে কবি নতুনচন্দ্র দে জন্ম গ্রহন করেন। তিতিন তৎকালীন সময়ে প্রচুর বূসম্পত্তির মালিক ছিলেন বলে তাকে জমিদার বলা হতো। তিনি একজন অত্যন্ত সৎ, যোগ্য ও ধর্মপারায়ন ব্যক্তি ছিণেনঅ প্রজাবৎসর জমিদার হিসেবে তার নাম চকরিয়ায় খ্যাত ছিল। বর্তলিী তথা চকরিয়ার সাহিত্যাঙ্গনে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রম ধর্মী প্রতিভা। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ “হিতপাঠ বা ছাত্রদিগের প্রতি উপদেশ” 1913 খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের মিন্টু প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। এটি হচ্ছে চকরিয়া থেকৈ প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের জন্য লিখিত প্রথম উপদেশ গ্রন্থ। “শিক্ষার আবশ্যকতা”, “সাধারণ ব্যবহার ও চরিত্র লাভের উপায়”, “ছাত্রদিগের প্রতি উপদেশ, “কতিপয় নীতি বাক্য”, “উপসংহার”, নামীয় ৫টি অধ্যায়ে সজ্জিত পুস্তকটি তৎকালীন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায় একটি অসাধারণ “প্রবন্ধ সংকলন” হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। “সাধনা সঙ্গীত” অর্থাৎ সাময়িক ভাবোদ্দীপক গীতিমালা (১৩২২ বঙ্গাব্দ) কবি নতুনচন্দ্র দে’র দ্বিতীয় গ্রন্থ। সম্প্রতি নতুনচন্দ্র দে লিীখত “অভয়া” নামের একটি উপন্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। ‘চিত্তবান কবি এবং বিত্তবান মানুষ’ হিসেবে খ্যাত অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী কবি নতুন চন্দ্র দে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। আরাকান রোডের সন্নিকটে পাহাড়ী নদী সোনাইছড়ি তটরেখায় বিশাল এলাকা নিয়ে নির্মিত নতুন চন্দ্র দে’র বাড়িটা ছিল চকরিয়ার প্রথম পরিকল্পিত বসতবাটি।

 

প্রবোধ চন্দ্র দেঃ নতুন চন্দ্র দে’র জৈষ্ঠ্য পুত্র প্রবোধচন্দ্র দে (১৯১৩-১৯৮১) একজন উন্নত মননশীলতার অধিকারী কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। কিবতা, সঙ্গীত ও প্রবন্ধ রচনায় তার স্বকীয়তা এবং আধুনিক দৃষ্টি ভঙ্গি সুধী মহলের প্রশংসা অর্জন করেছিল। সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর তিনি হারবাং মডেল ইংলিশ স্কুলের ইংরেজী শিক্ষক ছিলেন্। তার কোন গ্রন্থ প্রকাশিত না হলেও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় শাতাধিক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।


মাস্টার মোঃ শফিউল আলমঃ চকরিয়া থানার বরইতলী ইউনিয়নের অধিবাসী মাস্টার শফিউল আলম অতি সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। জন্ম ১৯১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। পিতার নাম: মুন্সি সৈয়দ আহমদ। ১৯৩৬ সালে হারবাং কাটাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। পরে বড় ভেওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪০ বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন।

ফররুখ আহমদ মুন্সিঃ তিনি সিকদার পাড়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি সুনাম খ্যাত সার্ভেয়ার ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।


মরহুম এম. এ আনোয়ার হোছাইনঃ পিতা: মরহুম আলহাজ্ব আকরাম উল্লাহ, মাতা: মরহুমা জরিনা বেগম তিনি ১৯৩১ সালে রসুলাবাদে জন্মগ্রহন করেন। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৪৮ সালে পেকুয়া হাই স্কুল হতে মেট্রিক, ১৯৫১ সালে ঢাকা কলেজ হতে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৫৩ সালে একই কলেজ হতে দ্বিতীয় শ্রেণীতে বি.এ পাশ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ষ্ট্যাট ব্যাংক অব পাকিস্তানে অফিসার পদে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে দূভাগ্যবশত: দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।

মাঃ বদিউল আলমঃ পিতা: মৃত আবদুস ছোবহান মিয়া। গ্রাম: ডেপুটি বাড়ী। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৪০এর দশকে প্রথম বিভাগে এস.এস.সি ও ঢাকা নটরডেম কলেজ হতে বি.এ পাশ করেন। তিনি ইংরেজী বিষয়ে খুবই পারদর্শী ও দক্ষ শিক্ষক ছিলেন। তিনি হারবাং ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ উমরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, কৈয়ারবিল উচ্চ বিদ্যালয়, পেকুয়া জি.এম.সি ইন্সটিটিউশান, পোকখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও সর্বশেষ বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অতি সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। তিনি দক্ষ, অভিজ্ঞ, ও কর্মতৎপর শিক্ষক হিসেবে সর্বত্র প্রসংশিত ও সমাদৃত ছিলেন। তিনি একজন নামকরা শিল্পীও ছিলেন। তাঁকে বরইতলী সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম পথিকৃত হিসেবে অবহিত করা যায়।


অমৃত লাল দেঃ হিন্দু পাড়া। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯৩০ এর দশকের শিক্ষক ছিলেন।


 

 

 

মরহুম জহিরুল হক চৌধুরীঃ জন্ম ১৯২৬। পিতা: মরহুম মাওলানা নমী উদ্দিন। গ্রাম: উপর পাড়া তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৩৯ সালে চকরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি পাশ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ এবং ময়মনসিংহ করোটিয়া শাহাদাৎকলেজে লেখাপড়া করেন। বৃটিশ থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে করাচি গামী প্রথম জাহাজে করে তিনি করাচি যান। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইন্স (পি.আই.এ)-এ এয়ার রিক্রুটিং অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী ফুটবল দলের সদস্য হয়ে সারা পাকিস্তানে সুনামের সাথে ফুটবল খেলেন। তিনি পুল বোল্ট খেলায় পুরো পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জণ করেন। তিনি ভাল শিকারি ছিলেন। করাচি থেকে দেশে ফিরে তিনি কিছু সময় চকরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৯ সালে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ নির্মাণের ভ্যাঙ্গীভেলী এলাকা থেকে উৎখাত করা উদ্বাস্তুদের সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে পুর্নবাসন করানোর জন্য চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোক যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষাবাদ করত তাদেরকে তাদের নিজস্ব জমি থেকে বিতাড়িত করলে ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষ হয়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আদালতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফলশ্র“তিতে মামলার রায় বাদী পক্ষে গেলে সরকার একটি আইনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের ৫০% জমি ফিরিয়ে দেন। এর বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর কাছে খুবই সমাদৃত হয়ে আছেন। তিনি ১৯৫৪ সালে লাহোরে চাকুরীকালীন পুরষ্কার স্বরুপ একটি দুই নলা বন্ধুক পান। তিনি পরবর্তী সময় এলাকার নিরীহ জনগণের বেশ সেবা করতেন বলে জানা যায়।)

মরহুম হাসমত উল্লাহ সওদাগরঃ পিতা: মরহুম মনছুর আলী মাতব্বর। তিনি খয়রাতি পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি তৎকালীন সময়ে বেশি শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলেও আরবি বা ধর্মীয় শিক্ষায় তার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। তিনি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অবদান রাখেন। তার মধ্যে উত্তর বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম। এছাড়াও তিনি উত্তর বরইতলী হাসমতিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসাসহ অনেক মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।


মরহুম ডাঃ আহমদ হোছাইনঃ পিতা: মরহুম আলহাজ্ব হাসমত উল্লাহ সওদাগর। তিনি পাকিস্তান আমল থেকে পরপর তিন বার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষ ও ন্যয় পরায়ন প্রশাসক হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। সমাজ সংস্কারমূলক কাজে তিনি সবসময় নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে ছিলেন। অন্যদিকে তিনি হোমিও ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। এলাকার সমস্ত জনসাধারণকে বিনা পয়সায় বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিতেন।

মরহুম গোলাম আহমদ প্রকাশ বাহাদুর মিয়াঃ মৃত্যু ১৯৬৫ সাল। পিতা: মরহুম গোলাম কাদের ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট, মাতা: মরহুমা হোছনে খাতুন, ডেুপুটি বাড়ি। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা। তিনি ১০ শতক জমি দান করেন। তিনি খুবই জনপ্রিয় লোক ছিলেন। স্কুল মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান সহ সামগ্রিক সহযোগিতা দান করেন। তিনি খুবই বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন বলে জানা যায়।


গোলাম মোহাম্মদ মিয়াঃ জন্ম ১৭ই আগষ্ট ১৯১৪ মৃত্যু ১৯৯২। পিতা: মরহুম গোলাম কাদের ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট, মাতা: মরহুমা হোছনে খাতুন, ডেপুটি বাড়ী। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ও চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় হতে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত হারবাং ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি অবিভক্ত হারবাং ইউনিয়নের রিলিফ কমিটির প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা। বরইতলী ফোরকানিয়া মাদ্রাসার জমিদাতা। চকরিয়া কলেজের ডোনেশান দাতা। বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি হারবাং উচ্চ বিদ্যালয়ের যথেষ্ট সহায়তা করেন। তিনি ১৯৪২-৯২ সাল পর্যন্ত হোমিও চিকিৎসা সেবায় জড়িত ছিলেন। পতিতযশা ডাক্তার হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। হোমিও প্যাথিক যে একটি বিজ্ঞান তা তিনি চকরিয়া তথা কক্সবাজার জেলায় প্রতিষ্ঠা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করেন। তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্মার মন্ডু থেকে রোগী এসে তার কাছে চিকিৎসা সেবা নিতেন। তিনি এলাকায় সৎ, গরীব দরদী হিসেবে পরিচিত। তিনি নিজ খরচে বরইতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬৫ হাত লম্বা একটি ইটের স্কুল নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। ১৯৬০ এর দশকে স্কুল পুন: নির্মাণকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম তার নিজ বাড়ীতেই চলত।

এনামুল হক চৌধুরীঃ পিতা: লকনুল হোছাইন চৌধুরী। তিনি বরইতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা, চকরিয়া হাই স্কুল হতে এস.এস.সি পাশ করেন। তিনি একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ছিলেন। তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় গঠনে বিশেষ অবদান রাখেন। বিদ্যালয়টিকে সরকারি অনুমোদনের জন্য নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি অফিসে যোগাযোগ করতেন। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি ডাঙ্গার দিঘীর জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণে  গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং ঐ পরিষদ নির্মাণের ঠিকাদারও ছিলেন। তিনি হারবাং ইউনিয়ন রিলিফ কমিটির দ্বিতীয় চেয়ারম্যান ছিলেন। তার উদ্যোগে নজরুল ইসলাম নামে এক বন্ধুর জমি বরইতলী ডাঙ্গার দীঘি খননের জন্য মসজিদের নামে দানপত্র করা হয়। এছাড়া শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তার অবদান অনস্বীকার্য।


এম.এইচ কলিম উল্লাহ চৌধুরীঃ জন্ম ও পরিচয়: মরহুম আব্দুল জলিল ও মরহুমা মায়মুনা খাতুনের আদরের দুলাল ও গর্বের ধন এম. এইচ কলিম উল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ১৯৩১ সালের ১লা অক্টোবর এক সুন্দর সময়ে ইতিহাসখ্যাত বরইতলীর রসুলাবাদ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।
শিক্ষা জীবনঃ বাবা-মার কাছ থেকে ও স্থানীয় মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনে পাশাপাশি অল্প দুরে বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁর প্রিয় শিক্ষক ছিলেন মরহুম মাস্টার আতাউল হাকিম। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির পর হারবাং উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। মুন্সিগঞ্জ হরগংগা কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে এইচ.এস.সি পাশ করে ১৯৫১-৫৪ সালে তেঁজগাও টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন।
কর্মজীবনঃ ১৯৫৪ সালে পাহাড়তলী ইস্পাহানি টেক্সটাইল মিল-এ শিক্ষানবীশ হিসেবে যোগাদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘ঢাকা কটন মিল’-এ শিক্ষানবীশ হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘ঢাকা কটন মিল’এ ‘ওভারশিয়ার’, কালিগঞ্জ ‘মসলিন কটন মিল’-এ সহকারী স্পিনিং মাস্টার, ‘খুলনা কটন মিল’-এ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রমা টেক্সটাইল মিল’-এ ব্যবস্থাপক ও ‘জলিল টেক্সটাইল মিল’-এ মহাব্যবস্থাপক এর গুরু দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ‘এশিয়াটিক কটন মিলস্’, ‘ন্যাশনাল কটন মিলস’, ‘একে খান কটন মিল’, ঈগল ষ্টার টেক্সটাইল মিলস্ লি: ও সর্বশেষ এ এন্ড এ টেক্সটাইল মিলস্ লি: থেকে ১৯৯৬ সালে
মহাব্যবস্থাপক হিসেবে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
সামাজিক কর্মকান্ডঃ দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি চট্টগ্রাম লায়ন ক্লাবের সদস্য, কক্সবাজার সমিতি চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য ও চকরিয়া সমিতি চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য হিসেবে মানব কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শত ব্যস্থতার ভেতর ও তিনি দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠির কথাভুলে যাননি। নিজ গ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং ১৯৬৮ সালে বরইতলীর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগে ছাড়া দিয়ে তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। পরে স্কুলের সমৃদ্ধির জন্য দূর থেকে প্রধান শিক্ষক এনে নিজ তহবিল থেকে চার বছর তাঁকে মাসিক ভাতা প্রদান করে শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদান রাখেন। পাশাপাশি চাকুরী ইচ্ছুকদের জন্য চাকুরী প্রাপ্তিতে সহযোগীতা করে সমাজ সেবায় ও অবদান রাখেন। অবহেলিত বরইতলীতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধি অর্জনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। সম্প্রতি তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন।

আবদুস সালাম সিকদারঃ  পিতা: দেলোয়ার হোছাইন সিকদার, সিকদার পাড়া। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। তিনি জায়গা জমির দলিলপত্র সংক্রান্ত সমস্যা অতি দক্ষতার সাথে সমাধানের পরামর্শ দিতেন। ব্যবসা বাণিজ্য, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ড ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় অবদান রেখেছিলেন।

মাস্টার মোহাম্মদ ইসলামঃ পিতা: দেলোয়ার হোছাইন সিকদার, সিকদার পাড়া। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ধর্মীয় সামাজিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

আমির হামজা মিয়াজীঃ মৃত্যু ১৯৮৬, পিতা: হামিদ বকসু, সিকদার পাড়া। তিনি বরইতলী জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষায় ও ধর্মীয় শিক্ষায় তার ভাল দক্ষতা ছিলে। উচ্চ ও মিষ্টি ভাষার ভাল মোয়াজ্জিন হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে।

মোস্তফিজুর রহমানঃ ছড়ার পূর্বকুল। তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি উক্ত উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দেড় একর জমি দান করেন। তাছাড়া তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

মাস্টার হাজী তছদ্দুক আহমদঃ জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯১২-মৃত্যু: ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯৮। পিতা: ছিদ্দিক আহমদ। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কাকারা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেন। পেকুয়া হতে তিনি জি.টি ট্রেনিং নেন। তিনি চকরিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছিলেন। তিনি দাঙ্গার দীঘি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ক্যাশিয়ার ছিলেন। তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ইমাম সাহেবের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি তাবলীগ জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
মাওলানা ছাইফুল অদুদঃ তিনি উত্তর বরইতলীর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি খুবই ধার্মিক লোক ছিলেন। ভাল ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে।

মাস্টার আবদুচ সোবহানঃ তিনি রসুলাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

মাস্টার মোবারক আলীঃ তিনি বাংলা পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

ডাঃ আবদুল মাবুদঃ তিনি বাংলা পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।


হাজী নেচার আহমদঃ পিতা: মরহুম ছিদ্দিক আহমদ। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হারবাং প্রাইমারিতে লেখাপড়া করেন। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। তিনি ডাঙ্গার দীঘি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।


মোজাম্মেল হক আমিনঃ পিতা: মরহুম ছিদ্দিক আহমদ। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে চকরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। তিনি চকরিয়ার সুনামখ্যাত সার্ভেয়ার ছিলেন। তিনি ডাঙ্গার দীঘি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি খুবই মিষ্টিভাষী ও ধার্মিক ছিলেন।

 

মাস্টার শামসুদ্দিন আহমদঃ পিতা: মরহুম ছিদ্দিক আহমদ। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা, চুনতি হাই স্কুল হতে এস.এস.সি পাশ করেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় অতি সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। তিনি খুবই সহজ সরল লোক ছিলেন। হাসি মুখে খেলার ভঙ্গিতে শিশুদের পড়াতেন বলে শিক্ষার্থীদের কাছে অতি প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

মাস্টার আহমদ হোছাইনঃ পিতা: মৃত সোয়াজান। তিনি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা ও এস.এস.সি পাশ করেন। চকরিয়া কলেজ হতে এইচ.এস.সি পাশ করেন। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন। চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি অতি ঠান্ডা মেজাজের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় জড়িত ছিলেন।


জনাব শেহাবুর অদুদঃ ১৯৪৩ সালে বরইতলীর এক সম্ভ্রন্ত পরিবাওে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সার্ভেয়ার (আমিন) জগতের এক প্রবাদ পুরুষ। তিনি এতদ অঞ্চলের ভ'মি জরিপ তথা  সার্ভেয়ার এর পথিকৃৎ ও কিংবদন্তী তুল্য। ভ'মি জরিপে তিনি জনসাধারন ও সরকার উভয়ের কাছে ছিলেন সমান বিম্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য। সরকারি-বেসরকারি অনেক জটিল ভ'মি বিরোধের সমাধান দিয়ে তিনি অমর হয়ে আছেন। জনাব শেহাবুর অদুদ কর্মজীবনের পাশা-পাশি পারিবারিক জীবনেও অধীক সফল। তার ছেলে-মেয়েরা সবাই সর্বো"চ শিক্ষায় শিক্ষিত।

বিপিন বিহারী মহাজনঃ বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় সহ এলাকার শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার, গ্রামীণ লোকের ভাগ্য উন্নয়নে যে সকল গুণিজন অবদান রেখেছেন তাহাদের মধ্যে বিপিন বিহারী মহাজন অন্যতম। বিপিন বিহারী মহাজন বরইতলীর অন্যতম ধনাঢ্য জমিদার জয়রাম মহাজনের বংশে ১৯১৮ ইংরেজী সালে এক শুভক্ষণে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম শশী কুমার মহাজন, পিতামহের নাম জয়রাম মহাজন। বিপিন বিহারী মহাজন বাল্যকাল হতে পিতা, পিতামহের মত দানশীল, দয়ালু এবং এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এলাকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ১৯৬০ ইংরেজী সনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অবিভক্ত হারবাং ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, তখন আমাদের সমৃদ্ধ বরইতলী ইউনিয়ন ও হারবাং ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল। বিপিন বিহারী মহাজন ও এলাকার জনগণের বিশ্বাসের অমর্যাদা করেননি। নিজেকে কখনো শাসক মনে করেননি, একনিষ্ট খাদেম হিসেবে জনগনের খেদমত করে গেছেন আজীবন। বন্যা দূর্গত এলাকায় পিড়িত লোকজনের কাছে নিজস্ব নৌকা নিয়ে নিজ তহবিল হতে চাল, ডাল, চিড়া, লবন, বিস্কুট, গুড় সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বিলিয়ে দিয়েছেন অকাতরে। অর্থ এবং চিকিৎসা সামগ্রীও দিয়েছেন উল্লেখযোগ্য হারে। বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯১১ ইংরেজী সালে প্রতিষ্টিত সালে হলেও আসলে এর গোড়া পত্তন হয় ১৯০১ ইংরেজী সালে। পাঁচকড়ি সিকদারের স্বতীয় জমির উপর প্রথমে এর গোড়া পত্তন হলেও বাকী করের দায়ে পাঁচকড়ি সিকদারের সমস্ত জমি নিলামে উঠায় স্কুলের অস্থিত্ব সংকটাপন্ন হয়। তখন বিপিন বিহারী মহাজনের পিতা শশী কুমার মহাজন উক্ত জমি নিলাম খরিদ করেন। নিলাম খরিদদার শিক্ষানুরাগী শশীকুমার মহাজন ৪০ শতক জমি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দান করেন। শশী কুমার মহাজনের উক্ত দানকৃত জমির উপর প্রতিষ্টিত হয় আজকের বরইতলী সরকারি বিদ্যালয়। বিপিন বিহারী মহাজন এলাকার অনগ্রসর, অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা বিস্তারেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়নে বাৎসরিক বড় অঙ্কের অনুদান দিতেন। তিনি স্কুল পরিচালনা কমিটিতেও অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। এই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ ইংরেজী সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন তাহারই সুযোগ্য কন্যা এ.পি.এম অনজলী দত্ত। বিপিন বিহারী মহাজন স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা ও মানসিক বিকাশের জন্য স্কুলের পশ্চিমে নিজ মালিকানায় স্থিত ২৯ শতক জমি খেলাধূলার জন্য মৌখিকভাবে দান করেন। উক্ত খেলার মাঠ অনেক দিন উন্মুক্ত ছিল এবং এলাকার অনেক প্রতিথযশা ব্যক্তি ছাত্র অবস্থায় উক্ত মাঠে খেলাধূলা করা সহ স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিপিন বিহারী মহাজন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতা ছিলেন।


হাজী মনিরুল্লাহঃ উপর বরইতলী। তিনি অত্র এলাকার জমিদার ছিলেন। তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের জন্য জমিদান করেছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

নূরুল ইসলাম সিকদারঃ জন্ম ১৯২৩-মৃত্যু ২৬ জানুয়ারী ২০০৪ ইংরেজী। তিনি স্থানীয় বরইতলী প্রাইমারী স্কুল হতে প্রাথমিক শিক্ষা ও চকরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস,সি পাশ করেন। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ নির্মাণের জন্য ইট দান, সার্বক্ষনিক তদারকি ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য বিশেষ অবদান রাখেন, তিনি বরইতলী সমাজ কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং বিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি দায়িত্ব ছিলেন। এছাড়াও বরইতলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

আসদ আলীঃ পিতা: হাজী আমিন উল্লাহ। তিনি উত্তর বরইতলী নামকরা জামিদার ছিলেন। তিনি খুবই গরীব দরদী এবং সমাজের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করেন।

শামসুল আলমঃ ১৯২৪ সালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার অন্তর্গত বরইতলী গ্রামের ডেপুটি বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁহার পিতা মরহুম আব্দুস ছোবহান মিয়া এবং মাতা হোসাইনারা খাতুন চোট বেলা থেকে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও ধর্মের প্রতি ছল বিশেষ অনুরাগ। তার শিক্ষা জীবন মুরু হয় বরইতলীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানেই তিনি  তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন পরবর্তী মাধ্যীমক শিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের মুসলিম হাই স্কুলে ভর্তি হন। এই বিদ্যালয় থেকে ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগহ্রন করে উর্ত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে জুলাই মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। অসুস্থতার কারণে মেডিকেল কোর্স শেষ করতে না পেরে পরবর্তী সময়ে ডিগ্রী পাস করেন ১৯৪৮-৫০ সালে। ১৯৫০ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতা পেশা দিয়ে। তিনি কুতুবদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন সেখান থেকে তিনি চলে যান সরকারি চাকুরী যোগদিতে করাচী এয়ার পোর্টে। ১৯৫২ -১৯৫৫ সালে প্রশিক্ষন শেষে ঢাকায় এসে ঢাকা এয়ারপোর্ঠে সহকারী যোগাযোগ অফিসার পদে যোগ দেন। তখন থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঢাক চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালে বিয়ে করনে। তার সহধর্মিনী ছিলেন মগনামার জমিদার বাড়ীর স্কুল ইন্সপেক্টর শামসুল আলমের কন্যা। ১৯৮৬ সালে অবসার গ্রহন করেন। অবসরের পর তিনি নিজ গ্রামে চলে আসেন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ব্যক্তি হিসাবে তিনি ছিলেন সৎ, ধার্মিক, ন্যায় পরায়ন। সমাজে সবারকাছে তিনি শান্তি প্রিয়, ধার্মক মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অবসর সময়টা তিনি সামাজিক ধর্মীয় কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। ২০০৩ সালে ২৭ শে জানুয়ারী বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও ৩ কন্যা রেখে যান।

মাষ্টার আতাউল হাকিমঃ পিতা: আবদুর রহমান। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রাথমিক শিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্তে জড়িত ছিলেন।


জনাব হযরত মাওলানা মরহুম এজহার আহমদ (রহ.)ঃ জন্ম: ৪ এপ্রিল ১৯২৭ সালে পিতার নাম মুহাম্মদ আব্দুল আলী , মাতার :- সুরত জমাল। বাল্যকালে তিনি ফতহে আলী সিকদার পাড়া জামে মসজিদে কুরআন শিা গ্রহণ করেন। তিনি বরইতলী ফয়জুল উলুম মাদরাসায় ইবতেদায়ী থেকে শুর" করে জামাতে উলা পযর্ন্ত লেখা পড়া শেষ করে উ"চ শিার জন্য হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি হাটহাজারী মাদরাসা থেকে কৃতিত্তের সাথে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। লেখা পড়া শেষ করে খতিবে আজম (রাহঃ) এর পরার্মশে ডেইংগাকাটা একটি জামে মসজিদে প্রায় ১৫ বছর পযর্ন্ত ইমামতি ও ফোরকানিয়ার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি উজানটিয়া একটি জামে মসজিদে প্রায় ৭ বছর ইমাতি ও ফোরকানিয়ার দায়িত্ব পালন করেন। এর তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে খতিবে আজম (রাহঃ) এর সাথে দ্বীনের কাজে সময় কাটান। তাহার শেষ বয়সে তিনি নিজ বাড়িতে অতি সাধারন ভাবে জীবন কাটান।১৭ নভেম্বর ২০০৮ সালে তিনি ইহলোক গমন করেন।

জনাব হযরত মাওলানা মরহুম কারী সুলতান আহমদ (রহ.)ঃ জন্ম:-১৯২০ সালে বাঁশখালী নাফুরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার:- মুহাম্মদ মনোহর আলী। তিনি বাশখালী উপজেলার পুইঁছড়ি আলিয়া মাদরাসা থেকে তৎকালীন আমলের মাইনা পাশ করেন। তৎকালীন আমলের মাইনা পাশ করে তিনি বাশখালীর একটি প্রাইমারী স্কুলে শিকতা করেন। পরবর্তিতে তিনি স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ জন্ম ভূমি ত্যাগ করে খতিবে আজম (রাহঃ) এর সান্নিধ্য লাভ করেন। এবং দণি বরইতলী গ্রামে বসবাস শুর" করেন। খতিবে আজম (রাহঃ) এর পরার্মশে তিনি হারবাং নিবাসী মরহুম মাওলানা কারী মুহাম্মদ আব্দুলাহ (রাহঃ) এর নিকট থেকে কেরাত উপর প্রায় ১বছর তালিম নেন। এর পর তিনি জমিদার গুরা মিয়া চৌধুরী মসজিদ ও ফোরকানিয়ায় এবং পরবর্তিতে জমিদার জিন্নাহ আলী চৌধুরীর মসজিদ ও ফোরকানিয়ার দায়িত্ব পালন করনে। সেখানে কিছু দিন থাকার পর খতিবে আজম (রাহঃ) এর পরার্মশক্রমে তিনি বরইতলী ফয়জুল উলুম মাদরাসায় শিক হিসাবে নিযুক্ত হন। বরইতলী মাদরাসায় কিছু দিন শিকতা করে পরবর্তিতে তিনি চট্টগ্রামের পাথরঘাটাস্থ ছোবাহানিয়া আলীয়া মাদরাসায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি কোট বিলিং জামে মাসজিদের খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।  ১৯৯৫ সালে তিনি পরলোক গমন করেন।

জনাব জহুরুল মাওলাঃ ১৯৪৩ সালে বরতলী ইউনিয়নের ফতহে আলী সিকদার পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা:-মাওলানা মরহুম আহমদ কবির,মাতা:-মোমেনা বেগম। তিনি ইবতেদায়ী থেকে জমাতে উলা পর্যন্ত সমাপ্ত করেন। ১৯৬৬ সালে হারবাং হাই স্কুল থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি কৈয়ারবিল হাই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।  ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেন। ডিগ্রি পাশ করার পর তিনি নিজ এলাকায় একটি প্রাইমারি স্কুল বর্তমান দক্ষিণ বরইতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করার জন্য জমি দান করেন। এবং উক্ত স্কুলে প্রতিষ্ঠতা শিক হিসাবে প্রায় ২৭ বছর শিকতার দায়িত্ব পালন করেন। শিকতা ও লেখা পড়ার পাশা পাশি তিনি সার্ভে প্রশিণ নিয়ে হারবাং ভূমি অফিসে প্রায় তিন বছর দতার সহিত সার্ভেয়ার কাজে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফতেহ আলী সিকদার পড়া জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি প্রায় ২বছর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০মে ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।


হাজী আবদুল হাকিমঃ (জন্ম-১৮৭৫-১৫/ফেব্র"য়ারী-১৯৮৫) পিতা-আহমদ আলী। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি বরইতলী মাদরাসার জমি দাতা। দণি বরইতলী হাকিম আলী জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বহদ্দরকাটা মাদরাসা, বানিয়ারছড়া মাদরাসা, হাটহাজারী মাদরাসা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেন। তিনি হারবাং ও বরইতলীর বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের সাথে জাড়িত ছিলেন।

হাজী মোহাম্মদ গোলাম বাচের সওদাগরঃ (১৯১৮-২৮/জুন-২০০৩) পিতা: আলহাজ্ব আহমদ কবির। তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন। ডাংগার দিঘি জামে সমজিদ পরিচালনা ককিটির সদস্য ছিলেন। তিনিই ঐ মসজিদের সিঁড়ি নির্মাণ করে দেন, তিনি, রাসুলাবাদ জামে সমজিদ এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসায় আর্থিক অনুদান দেন। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। তিনি একজন নামকরা মোয়াজ্জিন ছিলেন।

মরহুম ইকবাল আহমদঃ (জন্ম: ২৪/১/১৯৫২ মৃত্যু: ৯/১১/২০০০সাল) তিনি স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া শেষে শিকাতা পেশায় যোগদান করেন। তিনি চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক ছিলেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি কক্সবাজার জেলার অন্যতম ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন।
 
আমির হোসাইনঃ
পিতা: আহমদ আলী। তিনি উত্তর বরইতলী বিশিষ্ট জমিদার ছিলেন। চকরিয়া ভূমি অফিসের ভেন্ডার ছিলেন। স্কুল মাদরাসা সহ বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহয়তা দেন এবং সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।


নুরুল হোসাইন মেম্বারঃ তিনি স্থানীয় স্কুল হতে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দুই টার্ম নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। তিনি একজন জমিদিারও গাছের ব্যাবসা করতেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা করেন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।

 

মাওলানা আবদুল হাইঃ পিতা-আলহাজ্ব মোঃ ইছহাক। তিনি মাদরাসা শিায় ফাজিল পাশ করেন। তিনি বরইতলী প্রাইমারি স্কুলের শিক ছিলেন। তিনি উপর বরইতলী জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

আলহাজ্ব মাষ্টার মাহমুদুল হকঃ (জন্ম: (১৯২৭-৪ নভেম্বর-২০০৩)। পিতা-হাজী মতিউর রহমান। তিনি বরইতলী প্রাইমারী হতে প্রাথমিক শিা সম্পন্ন করার পর হারবাং উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস,সি. পাশ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। বরইতলী দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি(চার) ৪কানি জমি দান করেন।
 

 

মৃত মাওলানা জামাল উদ্দিনঃ পিতা- মাস্টার হামমুদুল চৌধুরী। তিনি স্থানীয় বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর কলিকতা আলীয়া মাদরাসা হতে কামিল পাশ করেন। তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১০ বছর বিনা বেতনে শিকতা করেন। তিনি বরইতলী দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সুপার ছিলেন।

মৃত উমর আলী বদ্য: তিনি উপর  বরইতলী বদ্য পাড়ার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একজন ভেষদ চিকিৎসক ছিলেন। তিনি খুবই জ্ঞানী ও আধ্যাত্মিক মতা সম্পন্ন লোক ছিলেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

ডাঃ আব্দুল মাবুদঃ তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে হেলথ ইন্সপেক্টর ছিলেন। তিনি আই.এ পাশ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বরইতলী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

নুরুল কবির চৌধুরী: পিতা- মরহুম মোহাম্মদ হোসেন। মাতা মরহুমা রহিমা খাতুন। জন্ম-২৫শে ডিসেম্বর ১৯৪৪ ইং । তিনি ১৯৬৭ সালে এইচ.এস.সি, ১৯৬৮ ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং করেন। ১৯৭৩ সালে বি.এ. পাশ করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে মিঠা পানিতে মৎস্য চাষে পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি বরইতলী দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সোনাইছড়ি খালের ২নং বাঁধের প্রতিষ্ঠাতা ও সোনাইছড়ি খালের কেন্দ্রীয় বাঁধ কমিটির সহ সভাপতি, বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বরইতলী উন্নত কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড চকরিয়া এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসতেছেন।

মাষ্টার আকবর আহমদ: পিতা: আবুল বশর: মাতা-মরিয়ম খাতুন। তিনি এস.এস.সি পাশ করেন। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক ছিলেন। ১৯৯১ সালে হারবাং বার্জিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে অবসর নেন। তিনি  সমাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯/১১/১৯৯৬সালে হইলোক গমন করেন।

মাষ্টার মোহাম্মদ হোছাইনঃ তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক শিা, বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক শিা ও সাতকানিয়া কলেজ হতে বি,কম পাশ করেন। তিনি বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে যথেষ্ঠ অবদান রাখেন। তিনি বরইতলী উ"চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

মাহফুজুল অদুদঃ তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ছিলেন। তিনি উত্তর বরইতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। তাছাড়া তিনি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

ফজল করিম সিকাদরঃ পিতা আশকর আলী, ছড়ার পূর্ব কুল। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। গরীব, দুঃখী মানুষকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন। তার পিতা বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় জমি বদলী করার সুযোগ দেন। ফলে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাজী ইমাম উদ্দিনঃ দক্ষিন বরইতলী চাঁদের বাপের পাড়া। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহন ও আর্থিক সহায়তা দান করতেন।

আবদুল মোনাফ সওদাগরঃ তিনি দক্ষিন বরইতলী চাঁদের বাপের পাড়া। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহন ও আর্থিক সহায়তা দান করতেন। তাছাড়া তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
ছিদ্দিক আহমদঃ দক্ষিন বরইতলী চাঁদের বাপের পাড়া। তিনি সমাজের সর্দার ছিলেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহন ও আর্থিক সহায়তা দান করতেন এবং তিনি খুবই ধার্মিক ছিলেন।

এডভোকেট মাহমুদুল হকঃ কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত বরইতলী ইউনিয়নের শান্তি বাজার গ্রামে ১৩ই জুলাই নয়া মিয়াজী বংশের মৌলভী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মৌলভী মফিজুর রহমান এবং মাতার নাম মরহুমা আমিনা খাতুন। তিনি ১৯৫৭ সালে বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে উক্ত বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্থাৎ ৫ম শ্রেণী কৃতিত্ত্বের সহিত সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯৬৮ সনে চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এস.এস.সি পাাশ করেন। ১৯৭০ সনে সাতকানিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞঅন বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ১৯৭৪ সনে পটিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন ১৯৮৬ সনে বাংলাদে বার কাউন্সিল থেকে এডভোকেটশীপ লাভ করেন। তিনি এইচ.এস.সি পাশ করার পর সর্বপ্রথম নবগঠিত বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সচিব নিযুক্ত হন। একটানা ১২ বছর কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে সচিব পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি আমজাদিয়া রফিকুল উলুম ফাযিল মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৮৪ সালে পহরচাঁদা মাদরাসায় সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। সচিব, শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গাছের ব্যবসা, সেচ প্রকল্প, সমাজ উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে চকরিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে কক্সবাজার জর্জ কোর্টে যোগদান করেন। একটানা ১৫ বছর (১৯৮৬-২০০১) তিনি আইন পেশায় জড়িত ছিলেন। তিনি ২০০১ সালের ১০ই আগষ্ট রোজ শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাজুল ইসলামঃ পিতা: মৃত আবুল হোছাইন তিনি স্থানীয় মাদ্রসা হতে ইবতেদায়ী, আমজাদিয়া রফিকুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা হতে ফাজিল পাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির চকরিয়া উপজেলা শাখার অফিস সম্পাদক ছিলেন। তিনি খুবই মিষ্টিভাষী ও যুক্তিবাদী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। দুভার্গ্য বশত: ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছাত্রাবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

মোহাম্মদ সায়েফঃ পিতা: মরহুম আকরাম উল্লাহ, বাংলা পাড়া। তিনি বরইতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে সরকারি বৃত্তি লাভসহ ৫ম শ্রেণী পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে করাইয়া নগর উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি, চকরিয়া কলেজ হতে এইচ.এস.সি ও ১৯৮৫ সালে প্রাইভেটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি.এ ও ১৯৮৯ সালে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি.এ) পাশ করেন। তিনি "জবধফরহম ঝশরষষং ধহফ চৎড়হড়ঁহপরধঃরড়হ" বিষয়ে বৃটিশ কাউন্সিলে ট্রেনিং নেন। ঝবপড়হফধৎু ঊহমষরংয ঞবধপযরহম রসঢ়ৎাবসবহঃ ঢ়ৎড়লবপঃ এর ট্রেনিং নেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে। তাছাড়া বাংলা ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ট্রেনিং নেন। তিনি ঘূর্ণিঝড়-দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনার উপর ট্রেনিং নেন। তিনি চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরইতলী গ্রামীন স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্রের দাতা সদস্য ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে একাধিক বিদ্যালয়ে প্রথমে সহকারী ও পরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আল আজহার উচ্চ বিদ্যালয়ে
বদরখালী, উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কুতুবদিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস এ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অবদান রাখেন এবং সার্টিফিকেট লাভ করেন।

সোয়াইবুল হক চৌধুরীঃ পিতা: লকনুল হোছাইন চৌধুরী সিকদার পাড়া, তিনি সামাজিক এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সক্রিয় অবদান রেখেছিলেন।

মাস্টার নজির আহমদঃ তেইল্যাকাটা, তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

দিদারুল আলম প্র: বেলাল মিয়াঃ ডেপুটি বাড়ী। তিনি সামাজিক এবং ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় অবদান রেখেছিলেন।

 

যাঁদের অকাল মৃত্যু এখনো স্মৃতিতে অম্লান

বশির উদ্দিন মাহমুদ মিনারঃ পিতা: মরহুম এ.এ সোলতান মাহমুদ, পিতামহ: গোলাম কাদের ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট। তিনি ১২ই ডিসেম্বর ১৯৫৭ ইংরেজী ২৪ অগ্রহায়ন ১৩৬৪ বাংলা ১৭ই জমাদিউল আওয়াল রোজ মঙ্গলবার জন্মগ্রহন করেন। ১৯৬৮ সালে পিতার কর্মস্থল যশোর জেলার শলিখা থানার আখ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বাকলিয়া রেসিডেন্সিয়াল হাই স্কুল থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। তার দৃঢ় মনোবল, সততা, প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিটি কলেজ ছাত্র লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুইডেন গমন করেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ২৬ ডিসেম্বর ২০০৩ ইংরেজী শুক্রবার ভোর রাত ০৩:৩৫ মিনিটে কক্সবাজার ফুয়াদ আল-খতিব হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিকস রোগে ভুগছিলেন।

শহীদ আবুল মনছর উদ্দীন চৌধুরীঃ পিতা:- মরহুম মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। জন্ম: ১৭/০৯/৫৩ ইং পহরচাঁদা, বরইতলী। তিনি পেকুয়া জি.এম.সি. ইনস্টিটিউট হতে এস.এস.সি পাশ করেন। চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ হতে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স কোর্সে ভর্তি হন। অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি আততায়ীর হাতে শহীদ হন। তিনি খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

মরহুম মারুফ রব্বান কাদেরীঃ কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বরইতলীর সম্ভ্রান্ত ডেপুটি পরিবারের ছেলে মারুফ রব্বান কাদেরী। তিনি ১৯৫৯ ইং সালে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা মরহুম গোলাম মোহাম্মদ অভিভক্ত হারবাং ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উল্লেখ্য মরহুম গোলাম কাদের ডেপুটি তাঁর পিতামহ। নির্মল,রুচিশীল,প্রাণচঞ্চল,অমায়িক ও সদালাপী ছিলেন মারুফ। তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভোকাল মিউজিক বিষয়ের উপর স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী লাভ করেন। মারুফ রব্বান কাদেরী একজন কন্ঠ শিল্পী হিসেবে তাঁর জীবদ্দশায় ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছেন। ১৯৯৭ ইং সালে মরহুম কাদেরী আইসিডিডিআরবি’র আনোয়ারা থানা প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ২রা মার্চ পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় যাবার পথে মারুফ ফেনীর কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর হাতেরগড়া পারিবারিক বাগানে প্রস্ফুঠিত বিভিন্ন জাতের গোলাপ পুষ্পপ্রীতির পরিচয় বহন করে। মারুফের শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও তাঁর অনুপম কথা,সৃজনশীল কাজ ও অনাবিল গানের সুর, অনেকদিন ধরে আমাদের মাঝে বাজবে। গান তথা শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা তাঁর পেশা ছিলনা বরং তা ছিল নেশা। তাই তাঁর মধ্যে পরিস্ফুটভাবে প্রতিভাত হয়েছিল একঁ নির্মল শিল্পী মনের প্রতিভাস। তিনি একজন ভাল লেখকও ছিলেন। এ লেখা নানা প্রবন্ধ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। জীবনের এমন একটি সময়ে মারুফের জীবন অবসান হয়েছে যখন তিনি পরিপূর্ণ জীবন লাভের অপেক্ষায় ছিলেন। যা আমাদের জন্য বড়ই বেদনা বিধূর ও বিষাদময়। তাঁর এই অকাল মৃত্যু দেশে সঙ্গীত চর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতিরই নামান্তর মাত্র।


আবু হানিফ মোহাম্মদ নোমানঃ তাঁর জন্ম ২৭/০৪/১৯৭৪,মৃত্যু:১১/০৬/১৯৯৭ ইংরেজী। আবু হানিফ মোহাম্মদ নোমান ঃ-পিতা- মাষ্টার কবির আহমদ, মাতা- মরহুম আনোয়ারা বেগম,গ্রাম- ছড়ার পূর্বকুল। তিনি বরইতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণী,বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স কোর্সে ভর্তি হন। ১৯৯৭ সালে অনার্স ফাইন্যাল পরীক্ষা শেষ করে গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে আসেন। অনার্স ফাইন্যাল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলেও ফলাফল তিনি  জানতে পারেননি। দুঃর্ভাগ্য বশত চকরিয়া কলেজের পাশে চট্টগ্রম মহাসড়কে রিক্সাযোগে চকরিয়া হাসপাতালে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসের চাপায় মারাত্মকভাবে আহত হন। দ্রুত ডুলহাজারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হলেও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তিনি খুবই ন¤্র,ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির লোক ছিলেন।

আশেকুল মওলাঃ জন্ম- ৮/১০/১৯৭৪ এবং মৃত্যু -০৯/০৭/২০০২ইং। পিতা: মাষ্টার আবদুল হক। গ্রাম : ডেপুটি বাড়ী। তিনি বরইতলী সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হতে ৫ম শ্রেণী ও বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি এবং চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ হতে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হতে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী লাভ করেন। দুর্ভাগ্য বশত তিনি চট্টগ্রাম একুশে হাসপাতালে কর্মকালীন এক বছরের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেন।

আবিদুর রহমানঃ পিতা: নুরুল কবির চৌধুরী। জন্ম ০১/১১/১৯৮৯ ইংরেজী। তিনি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক বৃত্তিসহ পঞ্চম শ্রেণী, বরইতলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০০৫ সালে এস.এস.সি এবং ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ হতে সফলতার সাথে এইচ.এস.সি পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল বিভাগে ভর্তি হন। ২১শে অক্টোবর ২০১১ ইংরেজী সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি নিহত হন।