মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বরইতলী ইউনিয়নের ইতিহাস

 

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখভাগ

 

ইংরেজী সভ্যতার জাহাজ যখন এতদঞ্জলে নোঙর করে তখন একটি এলাকা মনোমুগ্ধকর হলে মানচিত্র খুলে ছক দিয়ে এরিয়া (চক এরিয়া) দিয়ে চিহ্নিত করে রাখে। এই চক এরিয়াই আজকের চকরিয়া। এই চকরিয়াই বড় সমতল এলাকাটাই “বড় থল” মানে বড়ইতলী।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় ১৮৯৮ সালে বৃটিশ সার্ভেয়ার জনাব শারমিন সাহেব মধ্য বরইতলী পূর্ব পাশে হাটখোলা পাহাড়ে বসে যখন সি.এস জরিপ করছিলেন তখন এই এলাকাকে বড়ইতলী উল্লেখ করছিলেন।

 

বরইতলী ইউনিয়নের পশ্চিমে মছনিয়াকাটা পাহাড়, পূর্বে বান্দরবান পাবর্ত্য জেলার পাহাড়, দক্ষিনে কৈয়ারবিল পাহাড়, উত্তরে হারবাং ইউনিয়নের পাহাড় মাঝখানে বড়থলি। এই বড় থলি নামটি কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে বড়ইতলী নাম ধারণ করেছে। এই বড়ইতলীর পরিবর্তিত রূপ হচ্ছে বর্তমান বরইতলী। বরইতলীর মূল প্রাণ হচ্ছে সোনাইছড়ি খাল। এই সোনাইছড়িকে কেন্দ্র করে এখানকার জনপদ সৃষ্টি হয়েছে। সাতকানিয়ার “মুলা” নামক পাহাড়ের পাদদেশ হতে সৃষ্ট হয় বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুকখ্যাইয়জিরি, উত্তর বরইতলীর পূর্ব পাশে পাহাড় ঘেষে এসে উত্তর বরইতলীর বিশাল সমতল ভূমির উপর দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অতিক্রম করে মধ্য বরইতলীর উপর দিয়ে দক্ষিন-পশ্চিমে গিয়ে মাতামুহুরী নদীতে পতিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২০ কিলোমিটার। এই খালের পলি তীরের উভয় পাশে জমিতে পড়ে সোনার ফলস ফলায়, সোনা ছড়ায় তাই এর নাম সোনাইছড়ি। এই খালের পরিষ্কার পানি এখানকার জনপদের লোকেরা পান করা, গোলস, ওযু, চাষাবাদে ব্যবহার করে আসছে সূদুর প্রাচীনকাল হতে। যতদূর জানা যায় এ খালে জোয়ারের পানি আসত। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে মালামাল পরিবহন করা হত। পাহাড়ের প্রচুর গাছ, বাঁশ, বেত প্রতিবছর এ খালের উপর দিয়ে পরিবহন করে অনেক লোকের জীবিকা নির্বাহ করা হত।